মা ও স্ত্রীর মাঝে সম্পর্কের ভারসাম্য: কী বলে ইসলাম?
আমাদের সমাজের অধিকাংশ যুবকের জীবনের সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধটা শুরু হয় বিয়ের পর। একদিকে জন্মদাত্রী মা, অন্যদিকে জীবনসঙ্গিনী স্ত্রী। এই দুই প্রিয় মানুষের মন রক্ষা করতে গিয়ে অনেক পুরুষই খেই হারিয়ে ফেলেন। অথচ ইসলাম আমাদের এই জটিল পরিস্থিতির এক চমৎকার ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে মা এবং স্ত্রী—উভয়েরই নিজস্ব অধিকার ও মর্যাদা রয়েছে। একজন পুরুষের জন্য এই দুই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি তার ঈমানি দায়িত্ব।
১. মায়ের অধিকার ও সন্তানের কর্তব্য
কুরআনে আল্লাহ তাআলা নিজের ইবাদতের পরেই পিতামাতার সাথে সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। মায়ের স্থান ইসলামে সবকিছুর ঊর্ধ্বে। বিয়ের পর কোনো অবস্থাতেই মায়ের অবাধ্য হওয়া যাবে না, তার সাথে উগ্র আচরণ করা যাবে না। মায়ের ভরণপোষণ এবং মানসিক শান্তির খেয়াল রাখা সন্তানের অপরিহার্য দায়িত্ব।
২. স্ত্রীর অধিকার ও স্বামীর দায়িত্ব
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।” বিয়ের মাধ্যমে একজন নারী তার বাবা-মাকে ছেড়ে আপনার ওপর ভরসা করে চলে আসে। ইসলাম স্ত্রীকে নিজস্ব সত্ত্বা, সম্মান এবং অধিকার দিয়েছে। মায়ের ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে স্ত্রীর ওপর জুলুম করা কিংবা তার ন্যায্য অধিকার (যেমন: নিজস্ব বাসস্থান, সম্মান ও ভালোবাসা) থেকে বঞ্চিত করা স্পষ্ট গুনাহের কাজ।
পারিবারিক ভারসাম্য বজায় রাখার ৩টি মূলমন্ত্র:
- ন্যায়বিচার (Justice): একজন মুসলিম পুরুষ হিসেবে আপনাকে অন্ধ হওয়া যাবে না। মা ভুল করলে তাকে পরম শ্রদ্ধার সাথে আড়ালে বোঝাতে হবে, কিন্তু স্ত্রীর ওপর অন্যায় চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আবার স্ত্রী অন্যায় করলে তাকেও শাসন করতে হবে, তবে মায়ের সামনে ছোট করে নয়।
- আলাদা থাকার অধিকার: ইসলাম স্ত্রীকে নিজস্ব গোপনীয়তা ও স্বাধীনভাবে থাকার অধিকার দিয়েছে। যদি সম্ভব হয়, তবে মায়ের কাছাকাছি কিন্তু আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা উচিত, যেখানে স্ত্রী তার স্বাধীনতা পাবে এবং মায়ের সাথে প্রতিদিনের ঠোকাঠুকি এড়ানো যাবে।
- কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করা: স্ত্রীর কোনো অভিযোগ মায়ের সামনে বা মায়ের কোনো অভিযোগ স্ত্রীর সামনে সরাসরি প্রকাশ করবেন না। মাঝখানে দেয়াল হয়ে আপনাকে দুই দিকই সামলাতে হবে।
পরিশেষে:
মা হলেন জান্নাতের দরজা, আর স্ত্রী হলেন সেই জান্নাতের পথের সঙ্গী। একজনকে খুশি করতে গিয়ে অন্যজনকে হারানো যাবে না। বুদ্ধিমান ও আদর্শ মুসলিম পুরুষ তিনিই, যিনি মায়ের কাছে একজন অনুগত সন্তান এবং স্ত্রীর কাছে একজন দায়িত্বশীল ও ভালোবাসাময় স্বামী হতে পারেন। আল্লাহ আমাদের পরিবারগুলোতে শান্তি ও বরকত দান করুন। আমীন।
আরও পড়ুন
যৌতুক প্রথা: আগুনে পোড়া নীরব চিৎকার
তথ্যসূত্র ও প্রাসঙ্গিক পাঠ

ইসলামে মা ও স্ত্রীর অধিকার এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভারসাম্য

মাশাআল্লাহ, চমৎকার লেখা।