“মোহরানা সামর্থ্যের মধ্যে রাখলে বরকত ও শান্তি আসে—ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি”

মোহরানা: সামর্থ্যের ভিতরে বরকত, নারীর প্রাপ্য সম্মান

মোহরানা: সামর্থ্যের ভিতরে বরকত, নারীর প্রাপ্য সম্মান

মোহরানা: সামর্থ্যের ভিতরে বরকত, নারীর প্রাপ্য সম্মান

বিয়ে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়। এটি হলো দুই আত্মার মিলন, যেখানে ভালোবাসা, দায়িত্ব, সততা ও ঈমানের মেলবন্ধন ঘটে। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমরা প্রায়শই দেখি, মোহরানা কেবল সংখ্যার খেলা বা সামাজিক প্রতিযোগিতার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ এটাকে ব্যবসায়িক হিসাব বানিয়ে ব্যবহার করে, আবার কেউ একেবারেই বঞ্চিত হয়। অথচ ইসলামের শিক্ষা অন্য কিছু বলে,মোহরানা হলো স্ত্রীর মর্যাদা এবং স্বামীর দায়িত্বের প্রতীক, এবং তার সীমা হলো স্বামীর সামর্থ্য। (সূত্র: IslamQA)

সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মোহরানা

সর্বোচ্চ দেনমোহরের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই। আর সর্বনিম্ন মোহরানা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলে, প্রায় ফাতেমী মূল্য হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু সত্যিকারের মোহরানা মানতে হলে যে ইমান, আকিদা, চরিত্র ও দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন, সেটি অনেকের মধ্যে আজকের দিনে নেই।

আমরা প্রায়শই শুধু একটি মেয়েকে ঠকানোর জন্য “মোহরানা ফাতেমী” বলে দাবি করি। সমাজে এমন মানুষ আছে, যাদের টুপি মাথায়, দাঁড়ি, নামাজ, মসজিদসবই চোখে পড়ে, আর তারা সমাজে নিজেকে ধার্মিক বা সুফি ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। অথচ সেই ব্যক্তিরাই যখন বলে, “আমরা মোহরানা ফাতেমী করব,” বাস্তবে দেখা যায় এটি শুধু একটি মেয়েকে ঠকানোর কৌশল হয়ে দাঁড়ায়।

মেয়ের মর্যাদা এবং লাইফ গ্র্যাভিটি

প্রকৃত মোহরানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি মেয়ের ইজ্জত, সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থান, জীবন-যৌবন, রূপ,সবকিছু মিলিয়ে তার ‘লাইফ গ্র্যাভিটি’ বিবেচনা করা উচিত। এটি কোনো সংখ্যার খেলা নয়। একটি মেয়ের সম্মান কেবল তার বাহ্যিক অবয়ব বা টাকার মাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার অভিজ্ঞতা, চরিত্র, মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মানএগুলো মিলিয়ে দেখা উচিত।

শরীয়তের উদ্দেশ্য

শরীয়তের লক্ষ্য হলো, যখন স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের গৃহে আনে, তখন সে তাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে। সেই সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যম হলো মোহরানা, যা স্ত্রীর মর্যাদা, স্বামীর দায়িত্ববোধ এবং ঈমানের প্রমাণ। মোহরানা সামর্থ্যের মধ্যে রাখা বরকত, যার মাধ্যমে নারী প্রাপ্য সম্মান পায়।

বাস্তব জীবনের উদাহরণ

ধরুন, একজন পরিবার চায় মেয়ের মোহরানা ১০ লাখ টাকা। পাত্র জানায় সে শুধুমাত্র ২ লাখ দিতে পারে। কেউ হাসে, কেউ চোখ পাকিয়ে উঠে। কিন্তু পাত্র ধীর কণ্ঠে বলে, “যা আমার সামর্থ্যের মধ্যে, আমি শুধুমাত্র সেটিই দিতে সক্ষম ।”

সততা ও বিশ্বাসের মধ্যে বিয়ে

বিয়ে হলো দুই মানুষের জীবনের পবিত্র অঙ্গীকার। এতে প্রদর্শনের নয়, বাস্তব দায়িত্বের মূল্য সবচেয়ে বেশি। সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন হয় সততা, বিশ্বাস এবং সামর্থ্যের মধ্য দিয়ে।

আরো জানুন: যে পরিবারে মা–বাবার সংঘাত, সেখানে সন্তান হারায় স্বপ্ন (ইন্টারনাল লিঙ্ক)

সর্বশেষ শিক্ষা

সত্যিই, সবচেয়ে বড় সম্পদ টাকা নয়। সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ভালোবাসা, দায়িত্ব, সততা এবং আল্লাহর উপর ভরসা। মোহরানা শুধুমাত্র একটি অর্থ নয়, এটি নারীর প্রাপ্য সম্মান, স্বামীর দায়বদ্ধতার প্রকাশ এবং ঈমানের প্রতিফলন।

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।